লেবাননে ইসরায়েলের আগ্রাসন: জাতিসংঘে তীব্র বাদানুবাদে মুখোমুখি ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্র

লেবাননে ইসরায়েলের আগ্রাসন: জাতিসংঘে তীব্র বাদানুবাদে মুখোমুখি ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্র


এক নজরে নিউজের মূল বিষয়গুলো


জরুরি অধিবেশন: 

লেবাননের লিটানি নদীর উত্তরে ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসনের মুখে ফ্রান্সের আহ্বানে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

ফ্রান্সের অবস্থান: 

লেবাননের মাটিতে যেকোনো ধরনের ইসরায়েলি দখলদারিত্ব, বাফার জোন তৈরি এবং সাধারণ মানুষের ওপর উচ্ছেদ আদেশের তীব্র বিরোধিতা করেছে ফ্রান্স।

যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তি:

 সংকটের জন্য সরাসরি ইরান এবং হিজবুল্লাহকে দায়ী করে সামরিক আগ্রাসন বন্ধে নিজেদের শর্ত দিয়েছে ওয়াশিংটন।

লেবাননের দাবি: ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে 'সরাসরি অবৈধ দখলদারিত্ব' আখ্যা দিয়ে জাতিসংঘের ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে বৈরুত।

লেবাননের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ করে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর উত্তর অভিমুখে অগ্রযাত্রা এবং কৌশলগতভাবে 

গুরুত্বপূর্ণ লিটানি নদী অতিক্রমের ঘটনায় বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের বিশেষ আহ্বানে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জরুরি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। অধিবেশনে লেবানন সংকটের সমাধান নিয়ে দুই পরাশক্তি—ফ্রান্স ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার গভীর কূটনৈতিক ফাটল ও তীব্র বাদানুবাদ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
লেবাননের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন ও জাতিসংঘের গভীর উদ্বেগ
জাতিসংঘের রাজনৈতিক বিষয়ক বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিরাপত্তা পরিষদকে জানান যে, লেবাননের ভেতরে ইসরায়েলি বাহিনীর এই অনুপ্রবেশ ও সামরিক অবস্থান স্পষ্টভাবেই দেশটির ভৌগোলিক সার্বভৌমত্ব এবং পূর্ববর্তী শান্তি প্রস্তাবের চরম লঙ্ঘন। তবে তিনি ভারসাম্য বজায় রেখে এও উল্লেখ করেন যে, এই সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য হিজবুল্লাহকেও তাদের সমস্ত সশস্ত্র কার্যক্রম ও অস্ত্র সমর্পণ করতে হবে।

ফ্রান্সের কঠোর বার্তা: "লেবাননের মাটিতে কোনো বাফার জোন চলবে না"


অধিবেশনে সবচেয়ে জোরালো ও আক্রমণাত্মক অবস্থান নেয় ফ্রান্স। ফরাসি প্রতিনিধি দল সাফ জানিয়ে দেয় যে, লেবাননে ইসরায়েলের কোনো দীর্ঘমেয়াদি দখলদারিত্ব বা সামরিক উপস্থিতি ফ্রান্স কোনোভাবেই মেনে নেবে না।
ফ্রান্সের পক্ষ থেকে উত্থাপিত মূল দাবিগুলো হলো:

সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখা: লেবাননের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো ধরনের আপস বা দরকষাকষি করা যাবে না।
বাফার জোনের বিরোধিতা: লেবাননের ভূখণ্ডে কোনো ধরনের বিশেষ 'নিরাপত্তা জোন' বা 'বাফার জোন' প্রতিষ্ঠা করা যাবে না।

উচ্ছেদ আদেশ বন্ধ করা: 

সাধারণ নাগরিকদের ঘরবাড়ি ছাড়ার নির্দেশ (ইভাকুয়েশন অর্ডার) এবং নির্বিচারে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

"আমরা লেবাননের মাটিতে ইসরায়েলি বাহিনীর অবস্থান কিংবা কোনো ধরনের কৃত্রিম নিরাপত্তা জোন প্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধান্তকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।"

— ফরাসি প্রতিনিধি, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ।
যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা অভিযোগ: কাঠগড়ায় হিজবুল্লাহ ও ইরান
ফ্রান্স যখন ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা ও নিন্দা জানানোর দাবি তুলছে, তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল এই পরিস্থিতির জন্য সম্পূর্ণ ভিন্ন পক্ষকে দায়ী করেছে।
ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে সরাসরি অভিযোগ করা হয়েছে যে, ইরান তার প্রক্সি বাহিনী হিজবুল্লাহকে ব্যবহার করে ইচ্ছাকৃতভাবে এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী করছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলমান শান্তি আলোচনা বারবার ভেস্তে যাচ্ছে।
যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া মূল শর্তগুলো:
হিজবুল্লাহকে ইসরায়েলি ভূখণ্ডে সমস্ত ধরনের রকেট ও সামরিক হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
লেবাননের বৈধ সশস্ত্র বাহিনী (LAF) এবং দেশটির গণতান্ত্রিক সরকারকে সমগ্র লেবানন অঞ্চলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে হবে।
ইরানকে লেবাননের মাটি ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি বানানোর অপচেষ্টা বন্ধ করতে হবে।

লেবাননের আর্তি: "নিরাপত্তা পরিষদকে এক সুরে কথা বলতে হবে"

অধিবেশনে লেবাননের প্রতিনিধিরা অত্যন্ত আবেগপূর্ণ ও দৃঢ় কণ্ঠে জানান যে, ইসরায়েলি বাহিনীর অগ্রযাত্রা কোনো আত্মরক্ষা নয়, বরং এটি একটি সুনির্দিষ্ট 'অবৈধ দখলদারিত্ব'। তারা নিরাপত্তা পরিষদের সব সদস্য দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, "এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জাতিসংঘকে অবশ্যই একক ও ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠে কথা বলতে হবে এবং ইসরায়েলি আগ্রাসন প্রতিহত করতে হবে।"
ভবিষ্যৎ কোন দিকে?
যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সরাসরি আলোচনার কিছু গুঞ্জন শোনা গেলেও যুদ্ধক্ষেত্রে ইসরায়েলের আগ্রাসী নীতি পরিস্থিতিকে জটিল থেকে জটিলতর করে তুলছে। এখন কূটনৈতিক মহলে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—স্থলযুদ্ধ আরও রক্তক্ষয়ী রূপ নেওয়ার আগেই কি বিশ্বনেতারা একটি স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছাতে পারবেন?

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন ১: লেবানন নিয়ে জাতিসংঘের জরুরি বৈঠকটি কে ডেকেছিল?
উত্তর: লেবাননের লিটানি নদী অতিক্রম করে ইসরায়েলি বাহিনীর উত্তর দিকে অগ্রসর হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ফ্রান্স এই জরুরি অধিবেশন আহ্বান করেছিল।
প্রশ্ন ২: ফ্রান্স কেন ইসরায়েলের অভিযানের বিরোধিতা করছে?
উত্তর: ফ্রান্সের মতে, লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা অপরিবর্তনীয়। তারা লেবাননের মাটিতে ইসরায়েলের স্থায়ী দখলদারিত্ব বা কোনো ধরনের 'বাফার জোন' তৈরির সিদ্ধান্তের ঘোর বিরোধী।
প্রশ্ন ৩: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই সংকটের জন্য কাকে দায়ী করছে?
উত্তর: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধ ও অস্থিতিশীলতার জন্য সরাসরি হিজবুল্লাহ এবং তাদের মূল মদদদাতা ইরানকে দায়ী করছে।






Prothom-aloi.com

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

মন্তব্য করুন

নবীনতর পূর্বতন

banner ads 320×250

Facebook