ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধ: ১ দিনে ৪৬৮টি মিসাইল ছুঁড়ল ইসরায়েল, বিস্ফোরক তথ্য দিল জাতিসংঘ!

লেবানন ইসরায়েল যুদ্ধ জাতিসংঘের রিপোর্ট


লেবাননে ৯৭% ক্রস-বর্ডার হামলা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর: জাতিসংঘের রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য

​বিস্ফোরক ও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করল জাতিসংঘ (UN)। লেবানন ও ইসরায়েল সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের দেওয়া নতুন পরিসংখ্যান বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সীমান্তে হওয়া মোট ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমাবর্ষণের ঘটনার প্রায় ৯৭ শতাংশই চালিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF)। এই রিপোর্টের পর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

​জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক (Stephane Dujarric) এক বিশেষ প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি রক্ষা মিশন (UNIFIL) মাত্র একদিনের (মধ্যরাত থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত) তথ্যের ওপর ভিত্তি করে লেবানন সীমান্তে এই ভয়াবহ সামরিক তৎপরতা পর্যবেক্ষণ করেছে।

জাতিসংঘের রিপোর্টে যে ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে

​জাতিসংঘের অন-গ্রাউন্ড ডাটা বা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, একদিনের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমান্তে যা যা ঘটেছে:

  • মোট ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ: সীমান্ত এলাকায় মোট ৪৭৮টি প্রজেক্টাইল বা ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ রেকর্ড করা হয়েছে।
  • একতরফা ইসরায়েলি হামলা: এই ৪৭৮টি হামলার মধ্যে ৪৬৮টি হামলাই চালিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (IDF), যা মোট হামলার প্রায় ৯৭ শতাংশ।
  • হিজবুল্লাহর পাল্টা হামলা: অন্যদিকে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে ইসরায়েল অভিমুখে মাত্র ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়েছে, যা মোট সংখ্যার মাত্র ৩ শতাংশ।
  • আকাশসীমা লঙ্ঘন ও বিমান হামলা: প্রজেক্টাইলের পাশাপাশি ইসরায়েল লেবাননের অভ্যন্তরে ৯টি বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে এবং কমপক্ষে ৪৬ বার লেবাননের সার্বভৌম আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে।

জাতিসংঘের প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের তীক্ষ্ণ প্রশ্ন

​জাতিসংঘের এই অফিসিয়াল ডাটা সামনে আসার পর বিশ্ব গণমাধ্যমে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আল জাজিরাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকরা সরাসরি প্রশ্ন তোলেন— এই তথ্য থেকে কি পরিষ্কার নয় যে, এই যুদ্ধ দুটি সমান শক্তির লড়াই নয় এবং এখানে স্পষ্টভাবেই ইসরায়েল একতরফা আগ্রাসন চালাচ্ছে?

​সাংবাদিকদের এই ক্ষুরধার প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে গেলেও জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক বলেন, "লেবাননের প্রতিবেশি রাষ্ট্রগুলো, বিশেষ করে ইসরায়েলের উচিত লেবাননের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা।" তিনি আরও যোগ করেন যে, লেবাননের নিজস্ব ভূখণ্ডে শক্তি প্রয়োগ বা সুরক্ষার একক অধিকার কেবল লেবানন সেনাবাহিনী এবং তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা সংস্থার থাকা উচিত।

এসইও বুলেটিন: বিশ্ব রাজনীতিতে এর প্রভাব কী?

​আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘের এই রিপোর্ট স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে লেবাননের ওপর ইসরায়েলের আক্রমণ কতটা তীব্র এবং একতরফা। যেখানে এতদিন ধরে পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোতে প্রচার করা হচ্ছিল যে হিজবুল্লাহর হামলার জবাবে ইসরায়েল কেবল পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলছে, সেখানে জাতিসংঘের এই অন-গ্রাউন্ড ডাটা পুরো সমীকরণ বদলে দিয়েছে। এই রিপোর্ট সামনে আসার পর আন্তর্জাতিক মহলে ইসরায়েলের ওপর যুদ্ধবিরতির চাপ আরও বহুগুণ বেড়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত কী? লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলের এই একতরফা হামলা কি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো বড় যুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে? কমেন্ট করে আমাদের জানান এবং দেশ-বিদেশের সব ব্রেকিং নিউজ সবার আগে পেতে আমাদের ব্লগের সাথেই থাকুন।






Prothom-aloi.com

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

মন্তব্য করুন

নবীনতর পূর্বতন

banner ads 320×250

Facebook