আন্তর্জাতিক ডেস্ক
| ২৪ জুন, ২০২৬
বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান ধমনী হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) আর কখনোই যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতিতে ফিরে যাচ্ছে না। ইরান এবং ওমান যৌথভাবে এই অঞ্চলে একটি নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা 'সিকিউরিটি অর্ডার' গড়ে তুলতে যাচ্ছে। সম্প্রতি ওমানের রাজধানী মাস্কাটে ইরানের শীর্ষ পরমাণু আলোচনাকারী এবং ওমানের সুলতানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা হয়েছে।
কৌশলগত গবেষণা কেন্দ্রের (Center for Strategic Studies) গবেষক আলী আকবর বারিনী আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই নতুন ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য প্রকাশ করেছেন।
📌 যৌথ প্রশাসন এবং ট্রানজিট ফি আরোপ
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীর প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে:
- ৬০ দিনের ডেডলাইন: হরমুজ প্রণালী বর্তমানে উন্মুক্ত থাকলেও আগামী ৬০ দিন পর থেকে এই নৌপথ ব্যবহারে নতুন নিয়ম ও ট্রানজিট ফি (Fees) চালু হতে যাচ্ছে।
- যৌথ নিয়ন্ত্রণ: ইরান ও ওমান যৌথভাবে এই প্রণালীর ট্রাফিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিচালনা করবে।
- নতুন রুট নির্ধারণ: ইরান তার জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই নিজস্ব জলসীমায় নির্দিষ্ট নৌ রুট নির্ধারণ করেছে, যাতে এই প্রণালী ব্যবহার করে কেউ উস্কানিমূলক পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে।
- মার্কিন ঘাঁটি কোনো নিরাপত্তা নয়: আরব দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা ইরানের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। এই ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করে ইরানের ওপর কোনো হামলা বরদাশত করা হবে না।
- সুরক্ষা কেবল ইসরায়েলের জন্য: মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলো ধীরে ধীরে বুঝতে পারছে যে, মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো তাদের নিরাপত্তা দেয় না, বরং এগুলো মূলত ইসরায়েলকে সুরক্ষার জন্য নিয়োজিত।
"The Strait of Hormuz will not return to pre-war status... there will be joint Iranian-Omani administration." — আলী আকবর বারিনী
🛡️ মার্কিন চাপ উপেক্ষা করে ওমানের শক্ত অবস্থান
হরমুজ প্রণালীতে কোনো ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ বা বিপজ্জনক নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ করার বিষয়ে ইরান ও ওমান কয়েক দশক আগেই একমত হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের সংঘাত পুরো পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে।
ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ওমানকে ইরানের সাথে কোনো চুক্তিতে না যাওয়ার জন্য তীব্র চাপ এবং হুমকি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সমস্ত আন্তর্জাতিক চাপ উপেক্ষা করে দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। নতুন এই নিয়মে কেবল 'ইনোসেন্ট প্যাসেজ' বা শান্তিপূর্ণ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে।
⚠️ আরব দেশগুলোর প্রতি ইরানের কড়া বার্তা
উপকূলীয় কিছু আরব দেশ হরমুজ প্রণালীতে ইরানের এই একক বা যৌথ নিয়ন্ত্রণ এবং ফি আরোপের বিরোধিতা করলেও ইরান তার অবস্থানে অনড়। আরব অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য ইরান দুটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে:
📋 সারসংক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ সমীকরণ
আঞ্চলিক দেশগুলোর সামনে এখন যৌথ ও সম্মিলিত নিরাপত্তার ভিত্তিতে ইরানের সাথে সমঝোতায় আসা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই। ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা নিজের অস্তিত্ব রক্ষায় প্রয়োজনে যুদ্ধে জড়াবে, তবুও প্রতিবেশীদের মাটিতে মার্কিন ঘাঁটির আধিপত্য মেনে নেবে না। ফলে, হরমুজ প্রণালীর এই নতুন পরিবর্তন মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক ভূ-রাজনীতি এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে সম্পূর্ণ নতুন এক সমীকরণের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।