মস্কোর প্রধান তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের ভয়াবহ ড্রোন হামলা: রাশিয়ায় চরম উত্তেজনা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যকার চলমান যুদ্ধ এবার এক নতুন ও বিধ্বংসী রূপ ধারণ করেছে। রাশিয়ার রাজধানী মস্কোকে লক্ষ্য করে স্মরণকালের অন্যতম বৃহত্তম ও ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। এই হামলায় মস্কোর সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ একটি তেল শোধনাগার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
তেল শোধনাগারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ
মস্কোর মেয়রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন থেকে ধেয়ে আসা প্রায় ২০০টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে রাশিয়ান প্রতিরক্ষা বাহিনী। তবে বিপুল সংখ্যক ড্রোন ধ্বংস করা সম্ভব হলেও বেশ কয়েকটি ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যূহ ভেদ করে মস্কোর কাপুতনিয়া (Caputna) জেলায় অবস্থিত প্রধান তেল শোধনাগারে আঘাত হানে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, ড্রোন আঘাত হানার পরপরই তেল শোধনাগারের একটি বড় সাইলোতে (Silo) শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে সাইলোর বিশাল ঢাকনাটি উড়ে আকাশে চলে যায়। এছাড়া এই ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে বেশ কিছু আবাসিক ভবনও, যা সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
জেলেনস্কির প্রতিক্রিয়া ও ইউক্রেনের লক্ষ্য
এই সফল হামলার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তাঁর সামরিক বাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এই আক্রমণকে রাশিয়ার ক্রমাগত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একটি "ন্যায়সংগত জবাব" বলে অভিহিত করেছেন তিনি।
শুধু মস্কো নয়, রাশিয়ার রোস্তভ (Rostov) অঞ্চলের তেল শোধনাগারগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ইউক্রেনের মূল লক্ষ্য হলো রাশিয়ার অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি—জ্বালানি খাতকে পঙ্গু করে দেওয়া। ইউক্রেনীয় প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা চায় সাধারণ রাশিয়ান নাগরিকরাও যাতে তাদের ঘরে বসে এই যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতি এবং প্রভাব টের পায়।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও শান্তি আলোচনার চাপ
কাকতালীয়ভাবে এই হামলাটি এমন এক সময়ে চালানো হলো যখন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কাজানে তিন দিনব্যাপী 'রাশিয়া-আসিয়ান (Russia-ASEAN) শীর্ষ সম্মেলন' শুরু করেছেন। মস্কো যখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তাদের জ্বালানি বাজার সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে, ঠিক তখনই এই অর্থনৈতিক আঘাত পুতিন প্রশাসনের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রের স্থলভাগের লড়াই কিছুটা স্থবির হয়ে পড়লেও, উভয় পক্ষই আকাশপথে একে অপরের ওপর ক্রমাগত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য কোনো শান্তি আলোচনায় নিজেদের অবস্থান সুবিধাজনক করতে এবং অপর পক্ষের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করতেই এই ড্রোন যুদ্ধ তীব্র করা হয়েছে। অন্যদিকে, ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ (G7) শীর্ষ সম্মেলনে বিশ্বনেতারা ইউক্রেনের প্রতি তাদের সমর্থন অব্যাহত রাখার এবং রাশিয়ার ওপর চাপ বজায় রাখার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
দীর্ঘ পাল্লার ড্রোন প্রযুক্তিতে ইউক্রেনের বিপুল বিনিয়োগ এখন রাশিয়ার অভ্যন্তরে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে, যা এই যুদ্ধকে আরও দীর্ঘস্থায়ী ও বিপজ্জনক করে তুলছে।