আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যে আবারও যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ১-এ ইরানের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত একজন নিহত এবং ডজনখানেক মানুষ আহত হয়েছেন। গত এপ্রিল মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের পর, এই অঞ্চলে এটিই সবচেয়ে বড় এবং প্রথম মারাত্মক সামরিক উত্তেজনার ঘটনা।
কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই আকস্মিক হামলায় বিমানবন্দরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বেশ কয়েকটি দেশের কূটনৈতিক মিশন বা দূতাবাসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে হামলার পর বিমানবন্দরজুড়ে চরম বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্কের চিত্র দেখা গেছে।
কেন এই হামলা চালাল ইরান?
ইরানের সামরিক সূত্রের দাবি, তাদের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ অবকাঠামোতে সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার প্রতিশোধ নিতেই তারা কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন হেলিকপ্টার ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে। তবে কুয়েত সরকার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে একে তাদের "সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন" এবং একটি "নগ্ন আগ্রাসন" বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
বাহরাইনে মার্কিন নৌঘাঁটিতেও হামলার চেষ্টা
কুয়েতের পাশাপাশি ইরান বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের (US Fifth Fleet) সদর দফতরকেও লক্ষ্যবস্তু করে প্রজেক্টাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাহরাইনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত সফলভাবে ইরানের সমস্ত প্রজেক্টাইল আকাশে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে, যার ফলে সেখানে কোনো বড় ক্ষতি হয়নি।
এরই মধ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনী একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন অবরোধ অমান্য করে যাওয়ার সময় একটি ইরানি তেল ট্যাংকারে হামলা চালাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, আমেরিকার এই আগ্রাসনের জবাবেই তারা পাল্টা আঘাত হানছে।
হুমকির মুখে মার্কিন-ইরান যুদ্ধবিরতি
এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং ইরানি বাহিনীর মধ্যে একের পর এক পাল্টা হামলা এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়াকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
বর্তমানে কাতার, সৌদি আরব এবং পাকিস্তানের শীর্ষ কূটনীতিকরা মধ্যস্থতার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানি নেতৃত্বের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। তবে দুই পক্ষের মধ্যে একটি স্থায়ী সমঝোতা স্মারক (MoU) এখনো ঝুলে রয়েছে।
কী বলছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প?
এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লিখেছেন, "ইরানের সাথে আলোচনা চলছে, তবে এই আলোচনার ভবিষ্যৎ কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা এই মুহূর্তে কেউ জানে না।"
বিশ্লেষকদের মতে, এই অস্পষ্টতা এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাই মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতকে আরও বেশি বিপজ্জনক এবং অনাকাঙ্ক্ষিত করে তুলছে।