লেবাননে ইসরায়েলের মহাবিপর্যয়কর হামলা: টায়ার ও সিডন খালি করার নির্দেশ, নিহতের সংখ্যা ৩৬০০ পার!

Lebanon Israel War

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

মধ্যপ্রাচ্যে থামছেই না রক্তের হোলিখেলা। দক্ষিণ লেবানন জুড়ে এবার নজিরবিহীন ও ভয়াবহ বিমান হামলা শুরু করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (IDF)। লেবাননের অন্যতম প্রাচীন ও দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর টায়ার (Tyre) এবং এর আশেপাশের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোকে লক্ষ্য করে চলছে এই নির্বিচার বোমাবর্ষণ। ইসরায়েলের দাবি তারা হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে, তবে বাস্তবে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে।

​ এক নজরে লেবানন ট্র্যাজেডি:

  • মোট নিহতের সংখ্যা: ৩,৬৯৬ জন (সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৩০ জন)।
  • বাস্তুচ্যুত মানুষ: ১০ লাখেরও বেশি নাগরিক ঘরবাড়ি ছাড়া।
  • প্রধান আক্রান্ত এলাকা: টায়ার শহর, সিডন এবং সীমান্তবর্তী শহরসমূহ।
  • হামলার ধরন: বিমান হামলা, ড্রোন স্ট্রাইক এবং স্থল বাহিনীর মুখোমুখি যুদ্ধ।

​পুরো শহর খালি করার নির্দেশ: চরম আতঙ্কে লাখো মানুষ

​ইসরায়েলি বাহিনী পুরো টায়ার শহরজুড়ে "জোরপূর্বক উচ্ছেদ আদেশ" জারি করেছে। এর ফলে ঐতিহাসিক এই শহরটি এখন এক ভূতুড়ে নগরীতে পরিণত হয়েছে। এই উচ্ছেদ আদেশের আওতা থেকে বাদ যায়নি শহরের খ্রিস্টান কোয়ার্টার এবং ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরগুলোও। মানুষ যখন প্রাণভয়ে পালাচ্ছে, ঠিক তখনই শরণার্থী শিবিরগুলোকে লক্ষ্য করে একের পর এক মিসাইল ছুড়ছে ইসরায়েলি ফাইটার জেট।

​নিরাপদ আশ্রয়েও ড্রোন হামলা: সিডনে ভয়াবহ পরিস্থিতি

​টায়ার শহর থেকে পালিয়ে হাজার হাজার মানুষ একটু নিরাপদ আশ্রয়ের আশায় ছুটে গিয়েছিলেন সিডন (Sidon) শহরে। কিন্তু সেখানেও রেহাই মিলছে না। সিডন শহরের একটি চলন্ত গাড়ির ওপর ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় অন্তত দুই যাত্রী ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। বর্তমানে দক্ষিণ লেবাননের বাস্তুচ্যুত মানুষদের পালিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ ‘টায়ার-টু-সিডন’ মহাসড়কটি এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।

​সীমান্তে হিজবুল্লাহর পাল্টা প্রতিরোধ

​এদিকে আকাশপথে হামলার পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে লেবাননের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছে ইসরায়েলি স্থল সেনা। গত ৪৮ ঘণ্টায় ইসরায়েলি সৈন্যরা অন্তত দুবার লেবাননের ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশের তীব্র চেষ্টা চালায়। তবে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের যোদ্ধারা ইসরায়েলি বাহিনীর সেই অগ্রযাত্রা সফলভাবে রুখে দিয়েছে এবং সীমান্তে দুই পক্ষের মধ্যে এখন রক্তক্ষয়ী মুখোমুখি যুদ্ধ চলছে।

​অ্যাম্বুলেন্স ও উদ্ধারকর্মীদের ওপর টার্গেট: চরম মানবিক বিপর্যয়

​লেবাননের মানবিক পরিস্থিতি এখন খাদের কিনারায়। যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় উদ্ধারকাজ চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ইসরায়েলি বাহিনী পরিকল্পিতভাবে লেবাননের সিভিল ডিফেন্স, অ্যাম্বুলেন্স এবং প্যারামেডিকসদের টার্গেট করে হামলা চালাচ্ছে। ফলে বিমান হামলার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া আহত মানুষদের উদ্ধার করতে গিয়ে খোদ উদ্ধারকর্মীরাই প্রাণ হারাচ্ছেন।


নিউজ সোর্স আন্তর্জাতিক চ্যানেল আল জাজিরা ইংলিশ ইউটিউব চ্যানেল থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে 







Prothom-aloi.com

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

মন্তব্য করুন

নবীনতর পূর্বতন

Facebook