লিতানি নদী পেরিয়ে দক্ষিণ লেবাননের ঐতিহাসিক বোফোর্ট দুর্গ দখল করল ইসরায়েল

Beaufort Castle Lebanon Israel War


মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার মাঝে দক্ষিণ লেবাননে বড় ধরনের সামরিক অগ্রগতি অর্জন করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF)। ইসরায়েলি সামরিক সূত্রের দাবি অনুযায়ী, তারা দক্ষিণ লেবাননের লিতানি নদী পেরিয়ে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং দ্বাদশ শতাব্দীর ঐতিহাসিক বোফোর্ট দুর্গ (Beaufort Castle) পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।

​ইউনেস্কো (UNESCO) স্বীকৃত এই সুরক্ষিত ঐতিহ্যবাহী স্থানটিতে বর্তমানে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এবং গোলানি ব্রিগেডের পতাকা উড়তে দেখা গেছে। এই দুর্গটি দখল করার মাধ্যমে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের স্থল অভিযান আরও জোরালো রূপ নিল।

বোফোর্ট দুর্গের কৌশলগত ও সামরিক গুরুত্ব

​সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, বোফোর্ট দুর্গটি কেবল একটি ঐতিহাসিক নিদর্শনই নয়, বরং সামরিক দিক থেকে এটি অত্যন্ত সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

  • ভৌগোলিক সুবিধা: দুর্গটি লিতানি নদীর অন্যতম প্রধান শাখা শ্লোকি নদীর ওপর কয়েকশ মিটার উঁচু একটি পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত।
  • নজরদারি ক্ষমতা: এখান থেকে নাবাতিহ (Nabatieh) শহরের চারপাশের সমস্ত গ্রাম ও শহর, পশ্চিম বেকা উপত্যকা এবং এমনকি গোলান হাইটস ও উত্তর গ্যালিলি পর্যন্ত স্পষ্টভাবে নজরদারি করা সম্ভব।
  • সাপ্লাই লাইন বিচ্ছিন্ন: এই দুর্গটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ফলে পশ্চিম বেকা উপত্যকা থেকে নাবাতিহ জেলা এবং দক্ষিণ লেবাননের দিকে হিজবুল্লাহর প্রধান সামরিক সরবরাহ পথ বা সাপ্লাই লাইন অনেকটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি

​এই বোফোর্ট দুর্গের সাথে ইসরায়েলের দীর্ঘ ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে। এর আগে ইসরায়েল দীর্ঘ ১৮ বছর এই দুর্গটি দখল করে রেখেছিল এবং ২০০০ সালে তারা লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করে। ১৯৮২ সালের জুন মাসেও এই দুর্গের দখল নিতে ইসরায়েলি বাহিনীকে তীব্র যুদ্ধের মুখোমুখি হতে হয়েছিল, যেখানে তারা একজন উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তাকে হারিয়েছিল। দীর্ঘ বছর পর আবারও সেখানে ইসরায়েলি পতাকা উত্তোলিত হলো।

ইসরায়েলের উদযাপন ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

​বোফোর্ট দুর্গ দখলের এই ঘটনাকে ইসরায়েলের কট্টরপন্থী political মহল একটি বড় বিজয় হিসেবে দেখছে। ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এবং জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গ্যভিরের মতো নেতারা এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, এই অগ্রগতির মাধ্যমে অতীতের সামরিক ভুলগুলো সংশোধন করা হচ্ছে। মূলত সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর ড্রোন ও রকেট হামলার জবাবে ইসরায়েল তাদের এই স্থল অভিযান ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করেছে।

লেবাননের কঠোর নিন্দা ও তীব্র মানবিক সংকট

​অন্যদিকে, লেবাননের সরকার ইসরায়েলের এই আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। লেবাননের প্রধানমন্ত্রী ইসরায়েলের এই কর্মকাণ্ডকে "যৌথ শাস্তি" (Collective Punishment) এবং "পোড়ামাটি নীতি" (Scorched Earth Policy) হিসেবে অভিহিত করেছেন।

​ইসরায়েলের অব্যাহত বোমাবর্ষণ এবং দুর্গ দখলের পর দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিহ ও আশপাশের আবাসিক এলাকাগুলো থেকে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। চলমান হামলায় ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন এবং স্থানীয় hospital গুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আলোচনার মাঝেই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার কৌশল

​যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির আলোচনা এবং কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও ইসরায়েল "হামলার মুখে আলোচনা" (Negotiations under fire) চালিয়ে যাওয়ার নীতি বজায় রেখেছে]। ইসরায়েলের মূল লক্ষ্য হলো লেবানন সরকারকে দিয়ে হিজবুল্লাহর সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত করা, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত জটিল আকার ধারণ করেছে।

​নিউজ তথ্যসূত্র: আল জাজিরা ইংলিশ ইউটিউব চ্যানেল থেকে নেওয়া 






Prothom-aloi.com

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

মন্তব্য করুন

নবীনতর পূর্বতন

Facebook