গাজায় ইসরায়েলের নতুন চাল ‘ইয়েলো লাইন’: ৭০% এলাকা অবরুদ্ধ, মানচিত্র থেকে মুছে যাচ্ছে ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্ব!

Gaza Yellow Line Expansion News


আন্তর্জাতিক ডেস্ক || ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় বেসামরিক মানুষের বেঁচে থাকার শেষ আশ্রয়টুকুও কেড়ে নিচ্ছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। ক্রমাগত বোমাবর্ষণ এবং জোরপূর্বক উচ্ছেদের মাধ্যমে গাজার মানচিত্র প্রতিনিয়ত বদলে ফেলা হচ্ছে। এবার ইসরায়েলি বাহিনী তাদের সামরিক নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা বা তথাকথিত 'ইয়েলো লাইন' (Yellow Line) এর পরিধি অভূতপূর্ব মাত্রায় বৃদ্ধি করেছে।

​আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ চিত্র ও ফিলিস্তিনিদের চরম আকুতির কথা তুলে ধরা হয়েছে।

সংকুচিত গাজা: ৭০ শতাংশ এলাকাই এখন ইসরায়েলের কবজায়

​ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর নতুন নির্দেশনার পর গাজার নিরাপদ জোনের পরিধি আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। সামরিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে:

  • ​গাজা উপত্যকার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা এখন এই নতুন 'ইয়েলো লাইন' বা নিষিদ্ধ জোনের আওতাভুক্ত।
  • ​লাখ লাখ বেসামরিক ফিলিস্তিনিকে বাধ্য করা হচ্ছে এক অতি ক্ষুদ্র এবং ঘিঞ্জি সীমানার মধ্যে গাদাগাদি করে থাকতে।
  • ​এই আগ্রাসনের ফলে ফিলিস্তিনিরা শুধু তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই হারাচ্ছেন না, বরং হারিয়ে ফেলছেন তাদের কৃষিজমি ও উপার্জনের শেষ সম্বলটুকুও।
  • এক ভুক্তভোগী ফিলিস্তিনির আর্তনাদ:

    "সালাহউদ্দিন রোড থেকে মাত্র ১ কিলোমিটার দূরে এখন এই ইয়েলো লাইনের অবস্থান। পূর্বাঞ্চলীয় দেইর আল-বালাহ এলাকায় যুদ্ধ শুরুর ঠিক আগে আমি আমার নতুন বাড়িটি বানিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে একটা রাতও ঘুমানোর সুযোগ পাইনি। আজ আমি ও আমার পরিবার পুরোপুরি গৃহহীন।"


    একই পরিবার বারবার বাস্তুচ্যুত: যাযাবর জীবন ফিলিস্তিনিদের

    ​গাজার সাধারণ মানুষের জন্য এই উচ্ছেদ নতুন কিছু নয়। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে একেকটি পরিবারকে অন্তত ৩ থেকে ৪ বার তাদের তল্পিতল্পা গুটিয়ে নতুন জায়গায় ছুটে যেতে হচ্ছে। আগে যে এলাকাগুলোকে তুলনামূলক 'নিরাপদ জোন' বলে ঘোষণা করা হয়েছিল, ইসরায়েলি বাহিনী এখন সেগুলোকেও তাদের নতুন সামরিক মানচিত্রের অন্তর্ভুক্ত করছে। ফলে গাজায় এখন 'নিরাপদ' বলতে কোনো জায়গা অবশিষ্ট নেই।

    শরণার্থী শিবিরে মানবিক বিপর্যয় চরম সীমায়

    ​বেসামরিক নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত স্থানগুলো দিন দিন ছোট হয়ে আসায় অস্থায়ী ক্যাম্প এবং জাতিসংঘ পরিচালিত আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এই মুহূর্তে ক্যাম্পগুলোতে দেখা দিয়েছে চরম মানবিক সংকট:

    1. খাদ্য ও সুপেয় পানির তীব্র অভাব।
    2. জরুরি চিকিৎসা সেবা ও ওষুধের অভাব।
    3. অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে স্যানিটেশন ব্যবস্থার বিপর্যয়।

    ​প্রতিটি নতুন উচ্ছেদের নির্দেশের সাথে সাথে ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমিতে ফিরে আসার এবং জীবন নতুন করে সাজানোর স্বপ্ন ক্রমশ ধূলিসাৎ হয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে ইসরায়েলের এই 'ইয়েলো লাইন' বিস্তার গাজার লাখ লাখ মানুষের ভবিষ্যৎকে এক চরম ও স্থায়ী অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।




Prothom-aloi.com

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

মন্তব্য করুন

নবীনতর পূর্বতন

banner ads 320×250

Facebook