ইউক্রেনে আটক উত্তর কোরিয়ার যুদ্ধবন্দী: স্বদেশে ফেরত না পাঠানোর আহ্বান জাতিসংঘের

North Korea POW Ukraine UN


আন্তর্জাতিক ডেস্ক: 


ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে লড়াই করতে এসে বন্দী হওয়া দুই উত্তর কোরীয় সেনার একটি ভিডিও বার্তা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে ।
 তথ্যচিত্র নির্মাতা কিম ইয়ং মি-এর ধারণ করা ওই ভিডিওতে যুদ্ধবন্দীরা জাতিসংঘের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন, যেন তাদের উত্তর কোরিয়ায় ফেরত না পাঠিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় ।

উত্তর কোরিয়ার কঠোর নিয়ম অনুযায়ী, শত্রুর হাতে বন্দী হওয়া এবং যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ বিসর্জন না দিতে পারাটা সবচেয়ে বড় অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় ।
 এই কারণে বন্দীরা আশঙ্কা করছেন যে তাদের এই পরিণতির জন্য স্বদেশে থাকা তাদের বাবা-মা ও পরিবার ইতিমধ্যে বড় শাস্তির মুখোমুখি হয়েছে। আর তাই তারা দক্ষিণ কোরিয়ায় গিয়ে নতুন জীবন শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

কুরস্ক অঞ্চল থেকে আটক ও উত্তর কোরিয়ার সেনা মোতায়েন


উক্ত দুই সেনা সদস্যকে প্রায় এক বছর আগে রাশিয়ার কুরস্ক (Kursk) অঞ্চল থেকে বন্দী করা হয়েছিল ।
 মস্কোর যুদ্ধ প্রচেষ্টায় সহায়তা করতে উত্তর কোরিয়া যে বিশাল সামরিক দল পাঠিয়েছে, এরা তারই অংশ ছিল।
দক্ষিণ কোরিয়ার দেওয়া তথ্যমতে, প্রাথমিকভাবে প্রায় ১০,০০০ উত্তর কোরীয় সৈন্য রুশ বাহিনীর সাথে লড়াই করার জন্য মোতায়েন করা হয়েছিল।
 পরবর্তীতে সেই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা হয় এবং সমরাস্ত্র প্রকৌশলী ও নির্মাণ শ্রমিকদেরও এই যুদ্ধক্ষেত্রে যুক্ত করা হয়।

জাতিসংঘের স্পষ্ট অবস্থান ও আন্তর্জাতিক আইন


এই যুদ্ধবন্দীদের ভাগ্য নির্ধারণ নিয়ে জাতিসংঘের পূর্ববর্তী অবস্থানে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে । জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এবার অত্যন্ত স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং মানবাধিকার আইন অনুযায়ী, এই বন্দীদের জোরপূর্বক এমন কোনো অঞ্চলে বা দেশে ফেরত পাঠানো যাবে না যেখানে তাদের বড় ধরনের ক্ষতি বা প্রাণনাশের ঝুঁকি রয়েছে ।
অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তাদের উত্তর কোরিয়ায় ফেরত না পাঠানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে ।

কূটনৈতিক জটিলতা ও দক্ষিণ কোরিয়ার ভূমিকা


আইনগত বিষয়টি পরিষ্কার হলেও এই বন্দীদের নিয়ে কূটনৈতিক পরিস্থিতি বেশ জটিল । জেনেভা কনভেনশন (Geneva Conventions) অনুযায়ী, যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইউক্রেন এই বন্দীদের মুক্তি দিতে বাধ্য নয়। তাছাড়া, চলমান শান্তি আলোচনার টেবিলে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছ থেকে বড় কোনো কূটনৈতিক সুবিধা বা সহায়তা পাওয়ার জন্য ইউক্রেন এদের কার্ড হিসেবে ব্যবহার করতে পারে ।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার সংবিধান অনুযায়ী, তারা এই যুদ্ধবন্দীদের নিজেদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং তাদের গ্রহণ করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে । তবে উত্তর কোরিয়াকে সরাসরি ক্ষুব্ধ না করার নীতিগত অবস্থানের কারণে সিউল এখনো এদের মুক্তির জন্য সক্রিয়ভাবে কোনো চাপ সৃষ্টি করছে না। ফলে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপের পরও এই বন্দীদের ভাগ্যের চূড়ান্ত ফয়সালার জন্য হয়তো যুদ্ধ থামার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।


[সাংবদটি সংগ্রহ করা হয়েছে আল জাজিরা ইংলিশ ইউটিউব চ্যানেল থেকে]

Prothom-aloi.com

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

মন্তব্য করুন

নবীনতর পূর্বতন

Comments /banner ads 320×250

Facebook