মিনাব স্কুল হামলা: মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলার কয়েক মাস পরও থামেনি স্বজনদের কান্না

Minab school attack Iran


আন্তর্জাতিক ডেস্ক: 

ইরানের মিনাব শহরের শাজারিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়টি (Shajarea Elementary School) একসময় শিশুদের কোলাহল ও হাসিতে মুখরিত থাকত । কিন্তু আজ সেই শ্রেণীকক্ষগুলো নিস্তব্ধ, খেলার মাঠটি শূন্য এবং চারপাশের দেয়ালে লেগে আছে এক ভয়াবহ সহিংসতার ক্ষত । ইরানের ওপর মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলার প্রথম দিনেই এই স্কুলটি এক নৃশংস হামলার শিকার হয় ।

​কয়েক মাস পার হয়ে গেলেও মিনাব শহরের এই ট্র্যাজেডির ধাক্কা এবং শোক এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

নিমেষেই ঝরে গেল ১৫৬টি প্রাণ

​স্কুল চলাকালীন সময়ে চালানো এই ভয়াবহ বোমাবর্ষণে মোট ১৫৬ জন প্রাণ হারান । নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থী । এছাড়া বেশ কয়েকজন শিক্ষক (যাদের মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন), কয়েকজন অভিভাবক এবং স্কুলের একজন গাড়ি চালকও এই হামলায় নিহত হন [।

​স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এলাকাটিতে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছিল। স্কুলের যে অংশে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী জড়ো হয়েছিল, সেটি সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় । হামলার এতো দিন পরও ৭ বছর বয়সী মাকানসহ বেশ কয়েকজন শিশুর মরদেহ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি ।

স্বজনদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ও আর্তনাদ

​এই হামলায় নিহতদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে স্বজনদের কান্নার রোল এখনো থামেনি । হামলায় স্ত্রী ও সন্তান হারানো এক বাবা জানান, স্কুল থেকে সন্তানকে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে তার স্ত্রী স্কুলে এসেছিলেন, কিন্তু তার পৌঁছানোর আগেই ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে দুজনেই প্রাণ হারান ।

​অন্য এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বিস্ফোরণের শব্দ শুনে তিনি যখন ছাদে যান, তখন শুধু ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখতে পান । পরে জানতে পারেন তার ভাগ্নে কিয়ান যে স্কুলে পড়ে, সেটিই হামলার শিকার হয়েছে ।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ

​ইরান সরকার এই হামলাকে একটি চরম 'যুদ্ধাপরাধ' হিসেবে অভিহিত করেছে । কর্তৃপক্ষের দাবি, আমেরিকার দুটি 'টমাহক' (Tomahawk) ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি এই স্কুলে আঘাত হানে । সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশব্যাপী এই মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় মোট ২৭৯ জন শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছে এবং শত শত স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ।

​জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল (UN Human Rights Council) সহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা মিনাবের এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং একে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে । তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে এই আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা নিন্দার চেয়েও বড় দাবি হলো—তাদের হারানো সন্তানদের জন্য প্রকৃত বিচার এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা ।

[সংবাদটি সংগ্রহ করা হয়েছে আল জাজিরা ইংলিশ ইউটিউব চ্যানেল থেকে]



Prothom-aloi.com

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

মন্তব্য করুন

নবীনতর পূর্বতন

Comments /banner ads 320×250

Facebook