আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের সাথে চলমান আলোচনা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে সতর্ক আশাবাদ ব্যক্ত করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ইরানের সাথে আলোচনার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব রাখছে, তবে ইরান যদি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করার জেদ ধরে রাখে, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিকল্প পরিকল্পনা বা 'প্ল্যান বি' তৈরি রাখা উচিত।
সুইডেনে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা সবাই ইরানের সাথে এমন একটি চুক্তি আশা করি যার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত থাকবে এবং ইরান তার পারমাণবিক অস্ত্রের আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করবে। ওয়াশিংটন এই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে। তবে যদি ইরান এই প্রণালী উন্মুক্ত করতে অস্বীকৃতি জানায় এবং নিজেরা এর মালিকানা দাবি করে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর কাছ থেকে শুল্ক আদায়ের চেষ্টা করে, তবে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতা এবং আলোচনার অগ্রগতি
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের আলোচনা কিছুটা ধীরগতিতে হলেও অগ্রগতির দিকে যাচ্ছে। গত ৫ সপ্তাহের মধ্যে এই দ্বিতীয়বারের মতো পাকিস্তানের সামরিক প্রধান তেহরান সফরে যাচ্ছেন, যা আলোচনার ইতিবাচক অগ্রগতির একটি বড় সংকেত। এর পাশাপাশি ইরান তাদের আলোচনা দলের জন্য নতুন মুখপাত্র নিয়োগ করেছে এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজের যাতায়াত কিছুটা শিথিল করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও গত সপ্তাহের তুলনায় তাদের কঠোর সুর কিছুটা নরম করেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে, এই আলোচনা প্রক্রিয়ার বিষয়ে মার্কিন সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে পাকিস্তানি সামরিক প্রধানের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।
মধ্যস্থতাকারী হিসেবে জেনারেল আসিম মুনিরের কৌশল
পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির বর্তমানে এই দুই দেশের মধ্যকার দূরত্ব কমানোর মূল দায়িত্বে রয়েছেন। বিশ্ব রাজনীতিতে তার একটি বিশেষ অবস্থান রয়েছে—তার পেছনে যেমন সৌদি আরবের সমর্থন রয়েছে, তেমনই কাতারের সাথেও রয়েছে সুসম্পর্ক। একই সাথে চীন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের সাথেও তার সরাসরি যোগাযোগের পথ উন্মুক্ত।
সাবেক গোয়েন্দা প্রধান হিসেবে ইরানের সাথে তার দীর্ঘ প্রায় ১০ বছরের পুরনো সম্পর্ক রয়েছে। তিনি ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্ব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রেসিডেন্সি এবং দেশটির প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী আইআরজিসি (IRGC)—সবার সাথেই ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা চালাচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে, দুই দেশের মধ্যকার বিশাল 'অবিশ্বাসের সাগরে' বিশ্বাস ও সম্পর্কের সেতু তৈরি করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
মূল বিরোধের জায়গা
আলোচনার শুরুর দিকে ১৪টি বিষয় বা পয়েন্ট নিয়ে কথা শুরু হলেও তা পরবর্তীতে একটি স্মারকে রূপ নেয়। তবে এখনো প্রধান দুটি জটিলতা রয়ে গেছে—ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখা। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই বিষয়গুলোতে কিছুটা অগ্রগতি হলেও, তা শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষকে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে সাহায্য করবে কি না, তা দেখার জন্য বিশ্ববাসীকে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
[এই নিউজটি আল জাজিরা ইউটিউব চ্যানেল থেকে নেওয়া]
Tags
International