লেবাননে ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলা: রণক্ষেত্রের সমীকরণ বদল

Hezbollah drone attack Israeli troops Lebanon


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

 দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহর ধারাবাহিক ড্রোন হামলা রণক্ষেত্রের পুরো সমীকরণ বদলে দিচ্ছে। লেবাননে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনারা যাতে সেখানে কোনো স্থায়ী অবস্থান বা ঘাঁটি তৈরি করতে না পারে, সেজন্য হিজবুল্লাহ এখন তাদের প্রধান অস্ত্র হিসেবে এই ড্রোনগুলো বেছে নিয়েছে 
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীও স্বীকার করেছে যে, এই ড্রোন হামলার কারণে তাদের সেনাদের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ও নড়াচড়া মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দিনের বেলার অনেক অভিযান রাতের অন্ধকার না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখা হচ্ছে এবং অনেক সাধারণ মিশন পুরোপুরি বাতিল করতে হচ্ছে 

মাত্র ৪০০ ডলারের অস্ত্রের কাছে পরাস্ত আয়রন ডোম!


সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, মাত্র ৪০০ ডলার মূল্যের এই সাধারণ ড্রোনগুলো ইসরায়েলের অত্যাধুনিক ও কোটি কোটি ডলারের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে (Air Defense) ফাঁকি দিতে সক্ষম।

এই ড্রোনের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো:


অস্ত্র বহন ক্ষমতা: অনবোর্ড ক্যামেরাযুক্ত এই ড্রোনগুলো প্রায় ৬ কেজি পর্যন্ত বিস্ফোরক বহন করতে পারে।
স্থানীয়ভাবে তৈরি ও জ্যামিং প্রতিরোধী: এগুলো স্থানীয়ভাবেই সংযোজন করা সম্ভব এবং কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের মাধ্যমে এদের নিয়ন্ত্রণ বিচ্ছিন্ন করা যায় না।
ফাইবার অপটিক প্রযুক্তির ব্যবহার: ড্রোনগুলো একটি অত্যন্ত পাতলা ফাইবার অপটিক কেবলের মাধ্যমে দূর থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়, যা প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। এর ফলে এটি উত্তর ইসরায়েলের ভেতরেও আঘাত হানতে সক্ষম।

ইসরায়েলি সেনাদের অসহায়ত্ব ও রাজনৈতিক তোলপাড়


এই ড্রোন হামলার মুখে ইসরায়েলি সেনাদের "অসহায়" হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে, যা নিয়ে খোদ ইসরায়েলের ভেতরেই ব্যাপক রাজনৈতিক ও মিডিয়া সমালোচনা শুরু হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে এই ধরনের ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার আগেই দেখা গেছে, তবুও ইসরায়েলি সামরিক নেতৃত্ব শত্রুকে অবমূল্যায়ন করেছে এবং যথাযথ প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতি নেয়নি।
বর্তমানে এই ড্রোনগুলো মোকাবেলা করার মতো কার্যকর কোনো প্রযুক্তি বা সমাধান ইসরায়েলি বাহিনীর কাছে নেই, যার ফলে তাদের সেনাদের মধ্যে হতাহতের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

ব্যর্থ হচ্ছে ইসরায়েলি সীমান্ত প্রতিরক্ষা


হিজবুল্লাহর সাথে নতুন করে সংঘাত শুরুর ৩ মাস পেরিয়ে গেলেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান তার মূল নিরাপত্তা লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। একজন সামরিক কর্মকর্তা জানান, ইসরায়েলি সেনারা যখনই লেবাননের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে, তখনই তারা সেই কোটি কোটি ডলারের সীমান্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার (যেমন- আয়রন ডোম) সুরক্ষাবলয় থেকে বাইরে চলে গেছে।
যদিও আকাশে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো অবাধে চলাচল করছে, কিন্তু মাটির কাছাকাছি হিজবুল্লাহর এই সস্তা এবং অত্যন্ত কার্যকর ড্রোনগুলো যুদ্ধের সমস্ত চেনা নিয়ম নতুন করে লিখছে।

[এই নিউজটি আল জাজিরা ইংলিশ ইউটিউব চ্যানেল থেকে নেওয়া ]


Prothom-aloi.com

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

মন্তব্য করুন

নবীনতর পূর্বতন

Comments /banner ads 320×250

Facebook