আমার ভূমি আমার অধিকার, অটোমেটেড ভূমি সেবা এখন সবার
বর্তমান তারেক রহমানের সরকার ভূমি সেবা নিয়ে আরো উন্নত সেবা বাড়ানো শুরু করে দিয়েছে ভবিষ্যতে আরো উন্নত করা হবে এ সরকার বাংলাদেশের জনগণের আস্থা অর্জন করার সরকার
ভূমিসংক্রান্ত জটিলতা কিংবা 'ভূমিদস্যু' ও 'দালালদের' হয়রানির গল্প আমাদের সমাজে নতুন কিছু নয়। ব্রিটিশ আমলের লর্ড কর্নওয়ালিসের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত থেকে শুরু করে গত কয়েক দশক ধরে সাধারণ মানুষকে নিজের জমির অধিকার বুঝে পেতে পোহাতে হয়েছে অন্তহীন দুর্ভোগ।
তবে সময় বদলেছে। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের ভূমি মন্ত্রণালয় প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে শুরু করেছে। এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সম্প্রতি দেশজুড়ে উদযাপিত হলো ভূমিসেবা মেলা-২০২৬।
আজকের ব্লগে আমরা জানবো কীভাবে এই "স্মার্ট ভূমি সেবা" আপনার জীবনকে সহজ করে তুলছে এবং ভূমির মালিক হিসেবে আপনার করণীয় কী।
১. এক ছাতার নিচে ভূমি সেবা: দূর হচ্ছে ডিজিটাল যুগের বড় জটিলতা (বিএনপি সরকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের সেবায় কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে )
এতদিন ধরে জমির মালিকানার একটি বড় সমস্যা ছিল—জরিপ ও ব্যবস্থাপনা করতো ভূমি মন্ত্রণালয়, আর জমি রেজিস্ট্রি হতো আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের মাধ্যমে। এই দুই মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়হীনতার সুযোগ নিয়ে এক জমি একাধিকবার বিক্রি বা জাল দলিল তৈরির ঘটনা ঘটতো।
বর্তমান সরকারের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই পুরো প্রক্রিয়াকে এক ছাতার নিচে নিয়ে আসা হচ্ছে। ফলে সাব-রেজিস্ট্রার অফিস এবং ভূমি অফিস একই ডেটাবেজ শেয়ার করবে। সাব-রেজিস্ট্রার সাহেব ঘরে বসেই এক ক্লিকে যাচাই করতে পারবেন জমির প্রকৃত মালিক কে।
২. স্মার্ট ভূমি সেবার মূল ফিচারসমূহ (বিএনপি সরকার কৃষি বান্ধব সরকার)
ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশের যাত্রায় ভূমি সেবায় যে বৈপ্লবিক পরিবর্তনগুলো এসেছে, তা নিচে দেওয়া হলো:
- ১০০% ডিজিটাল নামজারি (ই-নামজারি): এখন আর ভূমি অফিসে দিনের পর দিন ঘুরতে হয় না। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনলাইনেই নামজারি বা মিউটেশন সম্পন্ন করা যাচ্ছে।
- অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর: ঘরে বসেই বিকাশ, রকেট বা উপায়ের মতো মোবাইল ব্যাংকিং দিয়ে জমির খাজনা বা কর পরিশোধ করা সম্ভব।
- হটলাইন ১৬১২২: ভূমি সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যা, অভিযোগ বা তথ্যের জন্য রয়েছে ২৪ ঘণ্টা সচল হটলাইন নম্বর ১৬১২২। দেশের বাইরে থেকেও এই সেবা পাওয়া যাচ্ছে।
- এনআইডি (NID) ইন্টিগ্রেশন: আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি ব্যবহার করে একটি সিঙ্গেল ক্লিকের মাধ্যমেই জমির খতিয়ান, পর্চা এবং ম্যাপের সব তথ্য চোখের সামনে চলে আসবে।
৩. কৃষি জমি সুরক্ষায় "ল্যান্ড জোনিং আইন ২০২৬ (তারেক রহমান সরকার অনেক সুন্দর ভূমি বিষয়ক আইন তৈরি করছেন যাতে করে জনগণের কষ্ট লাঘব হয়)
আমাদের দেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো অপরিকল্পিতভাবে কৃষি জমি নষ্ট করে আবাসন বা শিল্পকারখানা তৈরি করা। ২০২৬ সালের নতুন সংসদে পাস হওয়া "ভূমির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষি জমি সুরক্ষা আইন" একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
এই আইনের অধীনে পুরো দেশের একটি ডিজিটাল ম্যাপ বা ল্যান্ড জোনিং করা হচ্ছে। ম্যাপে যা কৃষি জমি (এক, দুই বা তিন ফসলি) হিসেবে চিহ্নিত থাকবে, সেখানে কোনোভাবেই ইটভাটা, কলকারখানা বা ঘরবাড়ি তৈরি করা যাবে না। এটি আমাদের ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে।
ভূমির মালিক হিসেবে আপনার জরুরি করণীয়:
সরকারের সিনিয়র সচিবের নির্দেশনানুযায়ী, চলতি বছরের ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা পরিশোধের শেষ সময় ৩০শে জুন। যেকোনো অপ্রীতিকর আইনি জটিলতা বা জরিমানা এড়াতে ৩০শে জুনের মধ্যে আপনার কর অনলাইনে পরিশোধ করুন।
শেষ কথা
জমি ক্রয়ের পর বা ওয়ারিশ সূত্রে মালিক হওয়ার পরপরই রেকর্ড আপডেট বা মিউটেশন করা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব। আপনি যদি আপনার জমির রেকর্ড হালনাগাদ না রাখেন, তবে তা বেদখল হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়। সরকারের এই অটোমেটেড সিস্টেমের সুবিধা নিতে এখনই ভিজিট করুন অফিসিয়াল ওয়েব পোর্টাল land.gov.bd অথবা ব্যবহার করুন "ভূমি অ্যাপ"।
নিজের ভূমি সুরক্ষিত রাখুন, স্মার্ট বাংলাদেশের অংশ হোন!