টেক দুনিয়ায় তোলপাড়: OpenAI-এর নতুন চাল!
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI জগতের সবচেয়ে বড় নাম OpenAI এবার পা রাখতে চলেছে শেয়ার বাজারে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই কোম্পানিটি তাদের IPO (Initial Public Offering) আনতে পারে। আর এই আইপিওতে তাদের সম্ভাব্য ভ্যালুয়েশন ধরা হচ্ছে চোখ কপালে তোলার মতো
১ ট্রিলিয়ন ডলার!
কিন্তু এই বিশাল উদ্যোগ কি সত্যিই এআই-এর সাফল্য, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে কোনো বড় সংকট? নামী টেক বিশ্লেষক এড জিট্রন (Ed Zitron) সহ অনেক অর্থনীতিবিদ একে দেখছেন স্যাম অল্টম্যানের এক চরম 'হতাশাজনক পদক্ষেপ' (Move of Desperation) হিসেবে।
কেন এই আইপিও-কে 'হতাশা' বলা হচ্ছে?
সাধারণত একটি প্রাইভেট কোম্পানি তখনই তড়িঘড়ি করে শেয়ার বাজারে আসতে চায়, যখন তাদের প্রাইভেট ফান্ডিং বা বিনিয়োগের উৎস ফুরিয়ে আসে।
"আপনি কোম্পানিকে ততক্ষণ পর্যন্ত প্রাইভেট রাখতে চাইবেন, যতক্ষণ পর্যন্ত এর সর্বোচ্চ রিটার্ন নিশ্চিত না হয়। কিন্তু যখনই প্রাইভেট ইনভেস্টরদের কাছ থেকে আর টাকা পাওয়া যায় না, তখনই পাবলিকের ঘাড়ে ঝুঁকি চাপানোর জন্য আইপিও-র পথ ধরা হয়।
এড জিট্রন
এমনকি OpenAI-এর নিজস্ব চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার (CFO) সারা ফ্রিয়ার নিজেই মনে করেন, কোম্পানিটি এখনও পাবলিক মার্কেটের কড়া নজরদারির জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। তা সত্ত্বেও এই তাড়াহুড়ো প্রমাণ করে, ভেতরে ভেতরে ক্যাশ বা তহবিলের সংকট কতটা তীব্র।
এআই খাতের 'অসম্ভব গণিত' (The Impossible Maths)
বর্তমানে মাইক্রোসফট, গুগল, মেটা এবং অ্যামাজনের মতো জায়ান্ট কোম্পানিগুলো এআই-এর পেছনে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ঢালছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই বিপুল খরচের বিপরীতে আয় বা ROI (Return on Investment) একদমই সামান্য।
একটি হিসাব অনুযায়ী, এই এআই বাবল বা বুদবুদ টিকিয়ে রাখতে হলে:
- গুগলকে শুধু এআই থেকে প্রতি বছর অতিরিক্ত ২০০ বিলিয়ন ডলার আয় করতে হবে (যা তাদের মূল সার্চ ইঞ্জিনের আয়ের সমান)।
- মাইক্রোসফট ও অ্যামাজনকে তাদের বর্তমান ক্লাউড ব্যবসার সমান সম্পূর্ণ নতুন রেভিনিউ জেনারেট করতে হবে।
বাস্তব দুনিয়ায় এত বিপুল পরিমাণ নতুন সফটওয়্যার রেভিনিউ রাতারাতি তৈরি হওয়া গাণিতিকভাবে অসম্ভব। কোম্পানিগুলো তাদের মূল ব্যবসার লাভের আড়ালে এআই-এর লোকসান লুকিয়ে রাখছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।
এনভিডিয়া (Nvidia) ও চক্রাকার অর্থায়নের খেলা
বাজারের আরেকটি বড় রহস্য হলো Nvidia-এর চিপ বা জিপিইউ (GPU) বিক্রি। কোম্পানিটি রেকর্ড পরিমাণ চিপ বিক্রি করলেও দেখা যাচ্ছে, সেই লাভের বড় অংশ তারা আবার বিভিন্ন ছোট এআই কোম্পানিতে বিনিয়োগ করছে। একে বলা হচ্ছে চক্রাকার অর্থায়ন (Circular Financing)। অর্থাৎ, নিজেদের চিপের কৃত্রিম চাহিদা বাজারে ধরে রাখতেই তারা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে এই অর্থায়ন করে যাচ্ছে।
২০২৬ কি তবে এআই বাজেট কমার বছর?
বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো এখন সুনির্দিষ্ট কোনো লাভ ছাড়াই অন্ধের মতো এআই টোকেন কিনে বাজেট শেষ করছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এক বছরের বাজেট মাত্র কয়েক মাসেই শেষ করে ফেলছে। ফাইন্যান্সিয়াল অফিসাররা (CFO) ইতিমধ্যেই এই লাগামহীন খরচে বিরক্ত। ফলে খুব শীঘ্রই কোম্পানিগুলো তাদের এআই বাজেট সংকুচিত করতে পারে, যার প্রভাব পড়বে পুরো টেক ইন্ডাস্ট্রিতে।
আমাদের মতামত
এআই প্রযুক্তি নিঃসন্দেহে দারুণ, কিন্তু বর্তমানে এটিকে ঘিরে যে অর্থনৈতিক উন্মাদনা বা হাইপ তৈরি করা হয়েছে, তা পুরোপুরি বাস্তবসম্মত নয়। OpenAI যদি সেপ্টেম্বরে পাবলিক মার্কেটে আসে, তবেই কোম্পানিটির ভেতরের আসল আর্থিক কঙ্কালটা উন্মোচিত হবে।
আপনার কি মনে হয়? এআই-এর এই বেলুন কি সত্যিই ফেটে যাবে? কমেন্ট করে আমাদের জানান!